তুহিন একজন কম্পিউটার দোকানের মালিক। দোকানের নাম তায়্যিবা কম্পিউটার এন্ড স্টেশনারী। সকাল সকাল তিনি দোকানে আসলেন এবং দোকান খোলার সাথে সাথে একজন বয়স্ক লোক আসলেন এবং বললেন তার একটি ছবি এবং কিছু জরুরী জিনিস পত্র ফটোকপি করে দিতে । এরকম সুন্দর করে একটি গল্প তৈরি করে দিন
অবশ্যই! তুহিনের দোকানের একটি সকালের সুন্দর ও প্রাণবন্ত গল্প নিচে দেওয়া হলো:
তায়্যিবা কম্পিউটার এন্ড স্টেশনারীর সকাল
সকালের সোনালী রোদ তখন সবেমাত্র শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলো ছুঁয়ে গেছে। চারপাশের চায়ের দোকানগুলোর কেটলি থেকে ওড়া ভাপ আর মিষ্টি গন্ধে এক স্নিগ্ধ পরিবেশ। ঠিক তখনই নিজের দোকানের শাটারটা ওপরের দিকে তুলে ভেতরে ঢুকলেন তুহিন।
তার দোকানের নাম "তায়্যিবা কম্পিউটার এন্ড স্টেশনারী"। এলাকার বেশ পরিচিত ও বিশ্বস্ত একটি দোকান। দোকান খুলতেই ভেতরে এক চিলতে মিষ্টি গন্ধ আর ভোরের ঠান্ডা আমেজ। তুহিন প্রতিদিনের মতো প্রথমে বিসমিল্লাহ বলে দোকানের কম্পিউটার আর প্রিন্টারটার সুইচ অন করলেন। মনিটরের আলো জ্বলে উঠতেই ফ্যানের মৃদু গুঞ্জন শুরু হলো।
দোকান ঠিকমতো গোছানো শেষও হয়নি, এমন সময় বাইরে থেকে একটা চেনা কণ্ঠ শোনা গেল—“বাবা, একটু শুনে যাও তো।”
তুহিন ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলেন, প্রায় ষাটোর্ধ্ব একজন বয়স্ক লোক দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। পরনে সামান্য ধুলোবালি লাগা সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা, কাঁধে একটা পুরানো কাপড়ের ঝোলা। লোকটির চোখে-মুখে কিছুটা ক্লান্তির ছাপ, তবে সাথে একরাশ আশার আলো।
তুহিন চটজলদি মুখে এক টুকরো হাসি ফুটিয়ে এগিয়ে এসে বলল, “আসুন চাচা, ভেতরে আসুন। বলুন, কী সেবা করতে পারি আপনার?”
বয়স্ক লোকটি একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, “বাবা, আমার একটা খুব জরুরি কাজ ছিল। গত সপ্তাহে গ্রামের বাড়ি থেকে একটা চিঠি আর সরকারি কাগজপত্রের কাগজ এসেছে। সেটার সাথে আমার একটা পাসপোর্ট সাইজ ছবি আর এই কাগজগুলোর কয়েক কপি ফটোকপি করতে হবে। বুড়া মানুষ, চোখের অবস্থাও ভালো না; তোমায় ছাড়া এই কাজ করে দেওয়ার মতো কাউকেই পাচ্ছি না।”
তুহিন অত্যন্ত আদরের সুরে বৃদ্ধ লোকটিকে একটা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসতে বললেন, “আরে চাচা, চিন্তা কী করছেন! আমি এখনই করে দিচ্ছি।”
এরপর তুহিন দ্রুত তার স্মার্টফোন দিয়ে চাচার একটা সুন্দর ছবি তুলে ল্যাপটপের মাধ্যমে নিমেষেই প্রিন্ট বের করে ফেললেন। তারপর কাগজগুলো প্রিন্টারের কাঁচের ওপর রেখে এক এক করে কয়েকটি পরিষ্কার ফটোকপি বের করে চাচার হাতে তুলে দিলেন।
কাজগুলো এত দ্রুত ও সুন্দরভাবে শেষ হতে দেখে বয়স্ক লোকটির মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি বুক পকেট থেকে সযত্নে কিছু টাকা বের করে তুহিনের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, “বাবা, তোমার হাতের কাজও যেমন ভালো, তেমনি তোমার ব্যবহারও খুব মিষ্টি। আল্লাহ তোমার ব্যবসায় অনেক বরকত দান করুন।”
বৃদ্ধ লোকটির মুখে এক প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল। তিনি দোয়া করতে করতে দোকান থেকে বেরিয়ে গেলেন। তায়্যিবা কম্পিউটার এন্ড স্টেশনারীর সাটার ঘেরা ছোট্ট দোকানটি তখন যেন মানুষের ভালোবাসায় আরও একটু উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তুহিনও একরাশ তৃপ্তি নিয়ে তার সকালের বাকি কাজের প্রস্তুতি শুরু করলেন।